মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলা প্রশাসনের পটভুমি

হাকিমপুর উপজেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

তখনো ভারত বর্ষ বিভক্ত হয় নাই । মুর্শিদাবাদের জমিদার মিনা কুমারী  তাহার জমিদার অন্তর্গত একটি  নাম তার বালুরঘাট । মিনা কুমারী ছিলেন ধনবতী –বিশাল সম্পদশালীনী । কিন্তু উহা রক্ষনা বেক্ষনের জন্য তাহার জনবল ছিল অপ্রতুল । তাই তিনি তাহার কিছু সম্পত্তি হস্তান্তর করিতে মনস্থ করিলেন । গদাধর মন্ডল উঠতি ধনশালী । বহুদিনের বাসনা জমিদার হইবেন। সুযোগ ও আসিল দর পত্তনি হিসাবে মিনা কুমারীর নিকট হইতে তিনি ক্রয় করিলেন বালুঘাট  থানার ৬টি মৌজা হাকিমপুর, ধরন্দা, মাকুরমুড়া, খোর্দ্দা-মাহসুল ,বাসুদেবপুর ও আপ্তর । এসব কিছু তখন ছিল বগুড়া জেলার অধীন ।

গদাঘরমন্ডল নি:সন্তান হওয়ায় তাহার মৃত্যুর পর ভাতুস্পুত্র বেনী মাধব দাস একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসাবে সম্পত্তির মালিক হন। বেণী মাধব দাসের কোন সন্তান  না থাকায় তাহার মৃত্যুর পর তদীয় স্ত্রী কুঞ্জবালা দাস্যা জমিদারী প্রাপ্ত হন এবং তাহার মৃত্যুর পর তাহাদের একমাত্র কন্যা বিধুবালা সরকার উক্ত সম্পত্তির মালিক হন।

ভারতবর্ষ বিভক্ত  হইল । জমিদারী প্রথাও উচ্ছেদ হইল । আর বালুরঘাট থানাও দুই ভাগে বিভক্ত হইয়া দুই দেশের অন্তর্ভুক্ত হইল। তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান ভুক্ত এই অঞ্চলটি পার্শ্ববর্তী থানা নবাবগঞ্জের অন্তর্ভুক্ত হইয়া বগুড়া হইতে দিনাজপুর জেলার অধীন চলিয়া আসিল । একে তো সীমান্ত এলাকা তার উপর থানা সদর হইতে দুর   ট্রেন ডাকাতি , গ্রামে গঞ্জে চুরি ডাকাতি  প্রভৃতি অরাজকতায় জন জীবন অতিষ্ঠ। প্রয়োজন দেখা দিল একটি পুলিশ ফাঁড়ীর তধানীন্তন পাক হিলি বাজারস্থ জনাব শফি মন্ডল সাহেবের চালকল গুদামে স্থাপিত হইল একটি পুলিশ   ফাঁড়ী ।

১৯৫০ সালের ২৫শে মার্চ হাকিমপুর ইতিহাসে এক স্মরনীয় ঘটনা । তৎকালীন পাকিস্তান সরকার এক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এই দিনে বোয়ালদাড়, আলীহাট, খট্টামাধবপাড়া ও বিরামপুর সহ মোট ৪ টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে হাকিমপুর মৌজার নামানুসারে হাকিমপুর  থানা ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে ২ টি ইউনিয়ন যথা হিলি-হাকিমপুর ও কাটলা সুষ্টির মাধ্যমে এই থানায় মোট ৬টি ইউনিয়ন হয়।

১৯৬১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার জমিদার বিধুবালা সরকারের নিকট হইতে তাহার বাসভবন সহ মোট ২৭৫একর ৫৮৬৯.২০ টাকায় ক্রয় করেন এবং সেখানে থানার অফিস স্থানান্তরিত  হয়। সৃষ্টির মুহুর্তে থানাটি মোটামুটি বড় থানা হিসাবে পরিচিতি ছিল। কিন্তু ১৯৮২ সালে এই থানার ২ টি ইউনিয়ন   কাটলা ও বিরামপুর  নবগঠিত থানা বিরামপুরের অন্তভুক্ত হয়। ফলে উপজেলাটি বর্তমানে  ৪ টি ইউনিয়ন লইয়া গঠিত । এই উপ জেলার উত্তরে নবাবগঞ্জ উপজেলা উত্তর পশ্চিমে নবগঠিত বিরামপুর উপজেলা দক্ষিনে পাচবিবি উপজেলা পূর্বে ঘোড়াঘাট উপজেলা এবং পশ্চিমে পশ্চিম বংগের অন্তর ভুক্ত হিলি থানা ।.

বর্তমান হাকিমপুর উপজেলা  ৬৯ টি মৌজায় বিভক্ত । এই উপজেলায় বৈগ্রাম মৌজায় একটি বহু প্রাচীন  বৌদ্ধ্য মন্দিরের ধংসাবশেষ আছে। ছাতনী মৌজায় রইয়াছে  একটি প্রাচীন মসজিদের ধংসাবশেষ ।  একটি গীর্জার ধংসাবশেষ দেখা যায়  লক্ষিকোল মৌজায় । অবিভক্ত ভারতে অত্র হাকিমপুর উপজেলা  ধানের ব্যবসার জন্য বিখ্যাত  ছিল । এই   এলাকায় ততকালে সবচেয়ে বড় আকারের ধান ভাংগানোর বয়লার মিল সহ বর্তমানে মোট ১৭ টি (সতের )  ধান ভাংগানের মিল আছে।

এই এলাকা বরেন্দ্র  অঞ্চলের অন্তর্গত। কোথাও কোথাও উচু অঞ্চল এখনো দেখা যায় । অধিকাংশ লোকই কৃষি জীবি। কৃষি ক্ষেত্রে ধান উতপাদনের উপযোগীতা সবচাইতে সব বেশী । । আদি অধিবাসী গণ কৃষিকেই প্রধান হিসাবে এখনও টিকাইয়া রাখিয়াছেন । এই উপজেলার মধ্য দিয়া তুলশী গঙ্গা ও যমুনা নদীর শাখা প্রশাখা বহমান ।

এই উপজেলাই মোট ৬ ছয় মাইল ভারত ও বাংলাদেশে মধ্যবর্তী সিমান্ত এলাকা । এই সিমান্ত এলাকায় একটি আন্তর্জাতিক চেক পোষ্ট অবস্থিত , যাহার নাম হিলি চেক পোষ্ট । বছরে প্রায় ৭-৮ হাজার লোক এই পথে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়ত করে।